হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক নিবন্ধন বিধিমালা ২০২৬ এর খসড়া কপি
2016 · Bangladesh Homoeopathic Medical Education Council · bn
১. মূল বিষয়গুলো এক নজরে
বিষয়
খসড়ায় কী বলা হয়েছে
উদাহরণ
চিকিৎসক নিবন্ধন
নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ শেষে নিবন্ধনের আবেদন
DHMS ও BHMS প্রার্থীর জন্য আলাদা আবেদন
ইন্টার্নশিপ
DHMS-এর জন্য ৬ মাস, BHMS-এর জন্য ১ বছর
BHMS পঞ্চম বর্ষ উত্তীর্ণের পর নির্ধারিত ইন্টার্নশিপ
নিবন্ধন সনদ
সনদের মেয়াদ ৫ বছর প্রস্তাব করা হয়েছে
মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবায়ন
নিবন্ধন ছাড়া চিকিৎসা
নিবন্ধন ছাড়া চিকিৎসা করা বা নিজেকে নিবন্ধিত চিকিৎসক পরিচয় দেওয়ার বিরুদ্ধে শাস্তির প্রস্তাব
নিবন্ধন না থাকলে চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসা করা যাবে না
‘ডা.’ পদবি
যোগ্যতা ও নিবন্ধনের শর্ত মেনে পদবি ব্যবহার
শুধু স্বল্পমেয়াদি কোনো কোর্স করলেই ‘ডা.’ লেখা যাবে না
পেশাগত আচরণ
অনুমোদিত আচরণবিধি মেনে চলতে হবে
রোগীর সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ
নিবন্ধন বাতিল
আইন বা পেশাগত আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান
গুরুতর অনিয়মে নিবন্ধন বাতিলের উদ্যোগ
আপিল
নিবন্ধন প্রত্যাখ্যান বা নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ
কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে আপিল
উপরের বিষয়গুলো খসড়ার মূল বিধানগুলোর সংক্ষিপ্তসার। খসড়া হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক নিবন…
২. কারা কীভাবে নিবন্ধন করবেন?
খসড়ার দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় তিনটি শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে নিবন্ধনের কথা বলা হয়েছে।
১. DHMS
চতুর্থ বা চূড়ান্ত বর্ষে উত্তীর্ণ হতে হবে।
৬ মাসের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হবে।
নির্ধারিত আবেদনপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি জমা দিতে হবে।
২. BHMS
পঞ্চম বর্ষে উত্তীর্ণ হতে হবে।
১ বছরের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হবে।
নির্ধারিত আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
৩. স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী
সরকার ও কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে হোমিওপ্যাথিক বিষয়ে স্বীকৃত স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে।
সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্র ও কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
উদাহরণ: একজন BHMS শিক্ষার্থী পঞ্চম বর্ষ উত্তীর্ণ হলেন। এরপর তিনি নির্ধারিত এক বছরের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করবেন।
মনে রাখবেন, শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন এবং পেশাগত নিবন্ধন—দুটি আলাদা বিষয়।
৩. নিবন্ধন সনদের মেয়াদ কত দিন?
খসড়ার ৩ নম্বর পৃষ্ঠায় নিবন্ধন সনদের মেয়াদ পাঁচ বছর রাখার কথা বলা হয়েছে।
উদাহরণ: একজন চিকিৎসক ২০২৭ সালে নিবন্ধন পেলেন। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, তাঁর সনদের পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে নবায়ন করতে হবে।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত নিয়মে নবায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন বহি থেকে চিকিৎসকের নাম বাদ দেওয়ার বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।
৪. নিবন্ধন ছাড়া চিকিৎসা করলে কী শাস্তির প্রস্তাব রয়েছে?
খসড়ার ৩ নম্বর পৃষ্ঠার ৬ নম্বর বিধিতে বলা হয়েছে:
নিবন্ধন ছাড়া হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা করা যাবে না।
নিজেকে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার ক্ষেত্রেও নিবন্ধনের বিধান মানতে হবে।
লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের প্রস্তাব রয়েছে।
উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ছাড়াই নিজেকে নিবন্ধিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা করছেন। প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
৫. ‘ডা.’ পদবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী বলা হয়েছে?
খসড়ার ৪ নম্বর পৃষ্ঠার ১০ নম্বর বিধিটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে বলা হয়েছে, স্বীকৃত পেশাগত যোগ্যতা ছাড়া এমন কোনো পদবি, বিবরণ বা প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না, যা দেখে মানুষ ভুলভাবে অতিরিক্ত চিকিৎসাগত যোগ্যতা আছে বলে মনে করতে পারে।
খসড়ায় ন্যূনতম BHMS অথবা DHMS ডিগ্রি/সনদপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পদবি ব্যবহারের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।
উদাহরণ: কেউ হোমিওপ্যাথিতে কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি অর্জন না করেই নিজের ভিজিটিং কার্ডে ‘ডা.’ লিখলেন। প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, এটি বিধিলঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু ডিগ্রি থাকাই সব ক্ষেত্রে যথেষ্ট কি না, তা চূড়ান্ত বিধিমালার সুনির্দিষ্ট ভাষা ও প্রযোজ্য আইনের আলোকে যাচাই করতে হবে।
৬. নিবন্ধন বাতিল হতে পারে কেন?
খসড়ার ৩ নম্বর পৃষ্ঠার ৭ নম্বর বিধিতে নিবন্ধন বাতিল ও নিবন্ধন বহি থেকে নাম প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী:
আইন লঙ্ঘন করলে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
পেশাগত আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে নিবন্ধন বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
ব্যবস্থা নেওয়ার আগে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে।
উদাহরণ: একজন নিবন্ধিত চিকিৎসক পেশাগত আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ উঠল। কাউন্সিল নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তাঁকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
অর্থাৎ, অভিযোগ উঠলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে—এমন নয়; খসড়ায় একটি প্রক্রিয়ার কথা রয়েছে।
৭. পুরোনো নিবন্ধিত চিকিৎসকদের কী হবে?
খসড়ার ৪ নম্বর পৃষ্ঠার ১৩ নম্বর বিধিতে বলা হয়েছে, আগের বিধিমালার অধীনে নিবন্ধিত চিকিৎসকদের নতুন বিধিমালার অধীনে নিবন্ধিত বলে গণ্য করা হবে।
উদাহরণ: একজন চিকিৎসক আগে থেকেই বৈধভাবে নিবন্ধিত। খসড়ার প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে তাঁকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন নিবন্ধন নিতে হবে—এমন কথা এখানে বলা হয়নি।
তবে পুরোনো সনদের নবায়ন, রেকর্ড হালনাগাদ ও অন্যান্য বাস্তব প্রয়োগের বিষয়ে চূড়ান্ত বিধিমালা অনুসরণ করতে হবে।
৮. হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
এই খসড়ায় মূলত পাঁচটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে:
১. শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ইন্টার্নশিপ: কে নিবন্ধনের যোগ্য হবেন, তা নির্ধারণ।
২. নিবন্ধন ও নবায়ন: চিকিৎসকদের নিবন্ধন সনদ ও নিবন্ধন রেকর্ড পরিচালনা।
৩. পেশাগত পরিচয়: ‘ডা.’ পদবি ও চিকিৎসক পরিচয় ব্যবহারের নিয়ম।
৪. জবাবদিহি: পেশাগত অনিয়মের ক্ষেত্রে নিবন্ধন বাতিল ও শাস্তির ব্যবস্থা।
৫. আপিলের সুযোগ: নিবন্ধন প্রত্যাখ্যান বা নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিকার চাওয়ার ব্যবস্থা।
পরামর্শ
যেহেতু এটি একটি খসড়া বিধিমালা, তাই চিকিৎসক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর উচিত প্রস্তাবিত নিয়মগুলো মনোযোগ দিয়ে পর্যালোচনা করা।
বিশেষ করে DHMS ও BHMS-এর যোগ্যতা, ‘ডা.’ পদবি ব্যবহারের শর্ত, পুরোনো নিবন্ধিত চিকিৎসকদের অধিকার, নবায়ন প্রক্রিয়া, শাস্তির বিধান এবং আপিলের সুযোগ—এই বিষয়গুলোতে স্পষ্টতা ও বাস্তবসম্মত প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।
www.homeopathy.bd
উৎস: Bangladesh Homoeopathic Medical Education Council
কপিরাইট স্ট্যাটাস: public_domain